অভিধান বলতে শব্দের সংগ্রহ-জাতীয় গ্রন্থকে বোঝায়। একটি ভাষিক সম্প্রদায় তাদের মুখের ও লিখিত ভাষায় যেসব শব্দ ব্যবহার করে সেইসব শব্দ অভিধানে ভুক্তি দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু সব সময় তা সম্ভব হয় না। অভিধানে প্রতিটি শব্দের বিস্তৃত পরিচয় লেখা থাকে। যেমন- শব্দটির উৎস কী, কীভাবে তা তৈরি হয়েছে, এর প্রাচীন ও বর্তমান ব্যবহার কেমন, এর উচ্চারণ কেমন, শব্দটি বিশেষ্য না বিশেষণ নাকি অন্য কোনো শ্রেণির ইত্যাদি। অভিধান বানান শেখার জন্য বিশ্বস্ত গ্রন্থ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বাংলা ভাষার অভিধান রচনার প্রথম চেষ্টা করেন খ্রিষ্টান মিশনারি মানুএল দা আসসুম্পসাঁউ। তাঁর রচিত বাংলা-পোর্তুগিজ ভাষার শব্দকোষ (Vocabulario em idioma Bengala e Portugez) গ্রন্থটি ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে পোর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে প্রকাশিত হয়। কিন্তু ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ প্রণীত বঙ্গভাষাভিধান-কে প্রথম বাংলা অভিধান হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীকালে বহু বাংলা অভিধান প্রকাশিত হয়েছে এবং এখনো প্রকাশিত হচ্ছে। বাংলাদেশে অভিধান প্রণয়নে বাংলা একাডেমির অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে বাংলা একাডেমি থেকে বাংলা ভাষার অভিধান ছাড়াও বেশ কিছু বিশেষায়িত অভিধান; যেমন- বানান অভিধান, উচ্চারণ অভিধান, বিজ্ঞান অভিধান, ঐতিহাসিক অভিধান, বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক অভিধান ইত্যাদি প্রকাশিত হয়েছে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
অভিধানে শব্দ সাজানোকে বলা হয় ভুক্তি। সব ভাষার অভিধানেই শব্দের এ-ভুক্তি নির্দিষ্ট ভাষার বর্ণক্রম অনুসারে হয়। বাংলায় ১১টি স্বরবর্ণ এবং ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে। যেমন-
স্বরবর্ণ : অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ
ব্যঞ্জনবর্ণ : ক খ গ ঘ ঙ চ ছ জ ঝ ঞ ট ঠ ড ঢ ণ ত থ দ ধ ন প ফ বভ ম য র ল শ ষ স হ ড় ঢ় য় ৎ ং ঃ ঁ।
অভিধানে এই ক্রম ঠিক এভাবে অনুসরণ করা হয়নি। সামান্য কিছু বৈচিত্র্য এক্ষেত্রে রয়েছে। বাংলা অভিধানে গৃহীত বর্ণানুক্রম নিম্নরূপ:
অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ ৎ ং ঃ ঁ ;
ক ক্ষ খ গ ঘ ঙ; চ ছ জ ছ ঞ; ট ঠ ড ড় ঢ ঢ় ণ; ত থ দ ধ ন; প ফ ব ভ ম; য (য়) র ল শ ষ স হ।
উল্লেখ্য যে,ং ঃ ঁ স্বরবর্ণের পরে ও ব্যঞ্জনবর্ণের আগে ব্যবহৃত হয়। আর 'ক্ষ' যুক্তবর্ণ হলেও অভিধানে ক-বর্ণের পরে বর্ণরূপে প্রয়োগ হয়।

অভিধানে ব্যবহৃত বর্ণানুক্রমিক শব্দ
বাংলা অভিধানের শব্দগুলো যেভাবে বর্ণানুক্রমে সাজানো হয়েছে তার কিছু নমুনা নিচে উল্লেখ করা হলো:
অ
অনাথ [অনাথ] বিণ এতিম; মা-বাবা এবং অভিভাবক নেই যেসব শিশুর।
অবনি, অবনী (বিরল) [অবোনি] বি পৃথিবী; ধরা; জগৎ।
আ
আক্কেল [আক্কেল] বি ১. বুদ্ধি; বিবেচনা; কাণ্ডজ্ঞান।
উ
উনুন [উনুন] বি চুলা।
ক
কিচিরমিচির [কিচির্মিচির্] বি ক্ষুদ্র পশুপাখির একসঙ্গে কোলাহল ধ্বনি।
কুমোর [কুমোর] বি কুম্ভকার; মাটি দিয়ে পুতুল, পাত্র, প্রতিমা তৈরি করা যাদের পেশা।
খ
খিড়কি, খিড়কী [খিড়কি] বি জানালা; বাতায়ন।
গ
গচ্ছা [গচ্ছা] বি অনর্থক অর্থদণ্ড; ক্ষতিপূরণ।
ছ
ছিন্ন [ছিন্নো] বিণ ছেঁড়া।
ছোপ [ছোপ] বি রঙের পোঁচ।
ড
ডাগর [ডাগোর] বিণ বৃহৎ; বড় (ডাগর চোখ, ডাগর মেয়ে)।
ত
তারিফ [তারিফ্] বি প্রশংসা; বাহবা।
তেজস্বী [তেজোশ্শি] বিণ শক্তিশালী; তেজোময়।
দ
দরবার [দর্বার] বি রাজসভা; জলসা।
দিব্যি [দিব্বি] বিণ ভালোভাবে; উত্তম; চমৎকার; পরিষ্কার করে।
ন
নিখিল [নিখিল] বিণ সমগ্র; পুরো; সমুদয়।
নিরানন্দ [নিরানোন্দো] বিণ আনন্দহীন; বিষণ্ণ; অসুখী।
নিয়তি [নিয়োতি] বি ভাগ্য; অদৃষ্ট; নসিব।
শ
শীর্ণ [শির্নো] বিণ কৃশ; ক্ষীণ; রোগা।
স
সচরাচর [শচরাচর] ক্রিবিণ সাধারণত; প্রায়শ; বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
সঠিক উত্তরের পাশে টিকচিহ্ন (√) দাও:
১। শব্দের সংগ্রহ-জাতীয় গ্রন্থকে কী বলে?
ক. অভিধান
খ. শব্দকোষ
গ. শব্দার্থকোষ
ঘ. শব্দমালা
২। বাংলা ভাষার অভিধান রচনার প্রথম চেষ্টা করেন কে?
ক. রাজা রামমোহন রায়
খ. উইলিয়াম কেরি
গ. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
ঘ. মানুএল দা আসসুম্পসাঁউ
৩। বাংলা-পোর্তুগিজ ভাষার শব্দকোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
ক. রাজা রামমোহন রায়
খ. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
গ. রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ
ঘ. উইলিয়াম কেরি
৪। বাংলা-পোর্তুগিজ ভাষার শব্দকোষ কখন প্রকাশিত হয়?
ক. ১৭৪১
খ. ১৭৪২
গ. ১৭৪৩
ঘ. ১৭৪৪
৫। রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ প্রণীত অভিধানের নাম কী?
ক. সরল বাংলা অভিধান
খ. বঙ্গভাষাভিধান
গ. ডিকশনারি
ঘ. ব্যবহারিক বাংলা অভিধান
৬। 'বঙ্গভাষাভিধান' কখন প্রকাশিত হয়?
ক. ১৮১৬
খ. ১৮১৭
গ. ১৮১৮
ঘ. ১৮১৯
৭। অভিধানে শব্দ সাজানোকে কী বলে?
ক. ভুক্তি
খ. গ্রহণ
গ. অনুপ্রবেশ
ঘ. প্রবেশ
৮। অভিধানে ব্যবহৃত বর্ণানুক্রম কোনটি ঠিক?
ক. ক আ আ উ
খ. উ ঋ ছ অ
গ. জ দ র আ
ঘ. ও ঔংঃ
৯। যুক্তাক্ষরের বর্ণানুক্রম কোনটি ঠিক?
ক. গ্ধ ঙ্গ ঙ্ক ক্ষ খ
খ. ঞ উ ড্ড ড় গ ন্ট
গ. ন্ট ন্ড ন্ঠ ন্ত ন্থ
ঘ. ষ্প ষ্ফ ষ্ণ ষ্ম ষ্ক
১০। অভিধানে ব্যবহৃত বর্ণানুক্রমিক শব্দ কোনটি ঠিক?
ক. আক্কেল, অনাথ
খ. গচ্ছা, কুমোর
গ. তারিফ, ছোপ
ঘ. নিখিল, সচরাচর
Read more